651 28 3
                                    

#অভিসারক_ও_অভিসারিণী
লেখা- #AbiarMaria

#৩

অফিস শেষে পার্টিতে যাওয়ার আগে একবার ফারহা ভাবলো একটু সাজুগুজু করবে কিনা। সাজ বলতে আজকাল বিবি ক্রিম, গাঢ় কাজল আর লিপস্টিক। ব্যাগ থেকে আয়না বের করতে গিয়ে একটা কাগজ পড়ে গেল। কাগজে একটা কবিতা লেখা-
যদি ভালোবেসে থাকো,
তবে ভুল বুঝে নিও,
আমি থাকিনি কভু তোমার তরে।
কভু হোক প্রারম্ভ নতুন বিহানের
যে বিহানে ভাঙবে ভুল,
আর হয়ত ভালোবাসাও...

ফারহা লেখার উপর হাত বুলালো, ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল মুচকি হাসি। শব্দগুলো জামানের। চলে যাওয়ার দিন বাসার সবার আবারও মন খারাপ ছিল। তবে সেদিনের মন খারাপের সব কারণ ফারহা। রাগ করে ওর সাথে কেউ কথা বলেনি, কেবল জামান ছাড়া। জামান বুঝতে পেরেছিল ফারহাকে শেষ পর্যন্ত। মেয়েটা কেন এমন করছে, এর কারণ ওর জীবনের সাথে জড়িত মানুষগুলো বুঝতে পারে নি। সবার অভিমান সত্ত্বেও যাওয়ার দিন জামান ওদের বাসায় এসেছিল। জামানকে দেখে ফারহার মায়ের মুখখানা এইটুকুন হয়ে গিয়েছিল। নিজের পাগল মেয়েকে এত ভালো একটা ছেলে বিয়ে করতে চাচ্ছে ভেবে গর্বে মুখখানা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। ভেবেছিল, এবার হয়ত এক মাত্র মেয়েটার একটা গতি হবে, জীবনটা একটু গোছাবে। তানাহলে নিজ থেকে কোনো ছেলে এই মেয়েকে বিয়ে করবে, সেটা চিন্তা করাটাই অবিশ্বাস্য। অথচ মেয়ে নিজ দায়িত্বে সে বিয়ে ভেঙে দিল, যেন সে নিজের কপাল নিজেই কালি গুলিয়ে অন্ধকার করছে। পাংশু মুখে জামানের দিকে চাইতেই জামান হাসিমুখে বলল,
"আন্টি, ফারহা আছে? কথা ছিল একটু"
"বসো বাবা"
জামান ভেতরে প্রবেশ করে, ওর হাতে একটা প্যাকেট। ফারহার মা কিছু জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও করলেন না। ডাইনিং এ হামিদাকে দেখে বললেন,
"ফারহাকে ড্রইংরুমে যাইতে বল। আর নাস্তা রেডি করে দে"
তার বড্ড হতাশ লাগে মেয়েকে নিয়ে। ওদিকে ফারহা হামিদার কথা শুনে হেলেদুলে ড্রইংরুমে ঢুকে জামানকে সোফায় বসে থাকতে দেখল। হাসিমুখে সামনে যেতেই জামান উঠে দাঁড়িয়ে প্যাকেট ওর দিকে এগিয়ে দিল।
"কি এটা?"
"তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার। নিয়ে এসেছিলাম তো অনেক কিছুই, কিন্তু সেসব তো আর দেয়ার সৌভাগ্য হলো না। এটাই রাখো"
ফারহা জামানের কথা শেষের আগেই প্যাকেট খুলতে শুরু করল। জামান মানা করতে গিয়ে থেমে গেল। প্যাকেটের ভেতর একটা আয়না, একটা ডায়রি, একটা স্ট্রেস ফ্রি হওয়ার জন্য বল। ফারহা বল দেখাতে বলল,
"এটা তোমার স্ট্রেস কমানোর জন্য। তুমি সবসময় স্ট্রেসড থাকো তো!"
"এটা?"
"আয়নায় নিজেকে দেখে দেখে মেয়ে হিসেবে সাজানোর জন্য। আমার ধারণা তোমার ঘরে কোনো আয়না নেই, এজন্য নিজেকে ছেলের মত বানিয়ে রাখো!"
"ভুল ধারণা! আমার ঘরে দুটো আয়না। আর ডায়রি কেন?"
"যেজন্য সবাই দেয়, সেজন্যই দেয়া। যাই হোক, আমি আসি"
ফারহা কিছু বলেনি। উপহার দেখে কিছুটা চান্দি গরম হয়ে আছে। ইজ হি মকিং উইথ মি? মানে স্ট্রে ফ্রি থাকার জন্য বল? জামান কি বলতে চায়? ওর মাথা গরম?! আর ও ছেলেদের মত থাকলেই বা কার বাপের কি? জামানের এত সমস্যা কেন? কেন ওকে মেয়েদের মত ভাব নিয়ে থাকতে হবে কেন? মেয়ে হতে হবে কেন? সাজতে হবে কেন? কেন ডায়রিতে লিখবে ও? যাতে অন্য মানুষ ডায়রি পড়ে বুঝে যায় ওর ভেতর কি চলছে? জেনে যায় ওর সব গোপন তথ্য? নাকি ফারহার মনের কথা জানার জন্য  ডায়রি একটা ট্রিক্স? রেগে ঘরে গিয়ে ডায়রির ভেতর এই কবিতা লেখা কাগজ পেয়েছিল। তখন পুরো প্যাকেজের উপর বিরক্তি লেগে গিয়েছিল।

অভিসারক ও অভিসারিণী Where stories live. Discover now