#অভিসারক_ও_অভিসারিণী
লেখা #AbiarMaria#৩৬
জামান আর ফারহা এয়ারপোর্টে বসে আছে। ফারহার সকাল থেকেই মন খারাপ। একে তো টেনশন হচ্ছে ওর বাবা মাকে নিয়ে, তার উপর খারাপ লাগছে এই দেশ থেকে চলে যাচ্ছে বলে। কান্না করতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পারছে না। মুখ গোমড়া করে জামানের পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগে ওরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে ওয়েটিংয়ে বসে আছে। যখন ঘোষণা আসবে, তখন উঠে যেতে হবে। ফারহা জামানের পাশে বসে আছে, কিন্তু জামানের দিকে তাকাতে ইচ্ছা করছে না। কারণ আসার পথে টেক্সিতে বসেই ওদের ছোটখাটো ঝগড়া হয়েছে। দ্বিতীয় ঝগড়া হয়েছে ইমিগ্রেশনে ঢোকার সময়। ফারহা পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছে না। জামান বারবার বলেছিল ওর সব কাগজ জামানের হাতে দিয়ে রাখার জন্য, দুটোর কাজ এক সাথে করবে। ফারহা গোঁ ধরে দেয়নি। বলেছে, ও নিজেই নিজের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ইমিগ্রেশনে দাঁড়িয়ে যখন আর স্বাচ্ছন্দ্যতার সাথে পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন জামান রক্ত চক্ষু করে ফারহার দিকে তাকিয়ে ছিল। পাক্কা চার মিনিট খোঁজার পরও যখন পায়নি, তখন জামান রক্তচক্ষু নিয়ে একবার হাত দিতেই সেটা পেয়ে গেল। ভালোয় ভালোয় ইমিগ্রেশন পার হয়ে এক চোট কথা শুনিয়ে দিয়েছে। এখন ফারহা গাল ফুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বসে আছে। জামানও ওকে পাত্তা না দিয়ে বসে বসে ফোন টিপছে।
কিছুক্ষণ পর জামান ওয়াশরুমের দিকে গেল। ফ্রেশ হয়ে ফিরে এসে দেখলো ফারহা পাশের।একটা বাচ্চার সাথে দুষ্টুমি করছে। কিছুক্ষণ বাদে ওর মা ওকে নিয়ে অন্য দিকে চলে গেল। ফারহা অদ্ভুত দৃষ্টিতে বাচ্চাটাকে দেখছে। জামান ওর কাঁধে হাত দিতেই ওর সরতে চাইল, জামান দিল না।
"মন খারাপ লাগছে?"
ফারহা জবাব দিল না। নিজের দুর্বলতা নিয়ে যতটা হীনমন্যতা বোধ হয়, তার চেয়ে বেশি অস্বস্তি হয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে ওর খুব চিন্তা হয়। এখন না হয় সময় ভালোই কাটছে, কিন্তু তারপর? জামান অন্য একটা প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করল।যখন ওরা প্লেনে উঠে বসেছে, তখনও জামানের বউয়ের মন খারাপ। জামান ওর হাত চেপে ধরল।
"এরকম জোম্বির মত বাংলাদেশে যাবা নাকি? মানুষ তো ভাববে প্লেনে আমি একটা জোম্বি নিয়ে উঠেছি!"
"ভাবলে ভাববে, তাতে তোমার কি?"
"না ইয়ে মানে, আবার আমাকে কামড়ে দিবে নাকি? তাহলে তো আমিও জোম্বি হয়ে যাবো!"
ফারহা জামানকে পাত্তা না দিয়ে সামনের সিটের পেছনের পকেটে রাখা ম্যাগাজিন বের করে পড়তে শুরু করল। জামান বিরক্ত হয়ে সেটা হাত থেকে নেয়ার চেষ্টা করতেই ফারহা উলটো টান দিল। ফলাফল- ম্যাগাজিন উড়ে গিয়ে পাশে ভদ্রলোকের মুখে পড়ল। ভদ্রলোক নিতান্ত ভদ্রলোক বলে টু শব্দটি করলো না। এদিকে ফারহা উলটো জামানকে চোখ রাঙানো শুরু করল ম্যাগাজিন ধরে টানাটানির জন্য।

YOU ARE READING
অভিসারক ও অভিসারিণী
Romanceফারহার জীবন থেমে যায়নি। জামান চলে গেছে, জামানের কাছ থেকে সে সরে এসেছে। কিন্তু সে কি আদৌ পেরেছে সরে আসতে? তাহলে কে তার অভিসারক? ফারহার বিয়ে হলো কার সাথে? কিভাবে? ফারহা এখন কি করছে? তারপর? ফারহার গল্পের শেষ অংশটুকু নিয়ে আবারও হাজির হলাম। অভিসারিণীর অ...