#অভিসারক_ও_অভিসারিণী
লেখা #AbiarMaria#২৫
ফারহা ফেসবুকে লগ ইন করার সাথে সাথে পাভেলের ভিডিও কল। ফারহা চমকে ওঠে ওর হাত থেকে ফোন প্রায় পড়েই যাচ্ছিল! গায়ে একটা ওড়না চাপিয়ে মাথায় পেচিয়ে ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে পাভেল চেঁচিয়ে উঠল,
"কনগ্রেজুলেশান দোস্ত! ফাইনালি! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারতেছিলাম না! মনে করছি, আমি বুঝি এখনো ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখতেছি! ট্রাস্ট মি, স্বপ্নও এত সুন্দর হয় না!"
ফারহার কেমন যেন লজ্জা লাগছে। লাউড স্পিকারে কথা শুনতে জামান মিটিমিটি হাসছে। ওর হাসি দেখে ফারহার আরও বেশি গা জ্বলে যাচ্ছে, আবার লজ্জায় শামুকের মত খোলসে ঢুকে যেতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু ও তো আর শামুক না, চাইলেও কোথাও পট করে ঢুকে যেতে পারবে না।
"তোকে কে বলল?"
"আর কে বলল? তুই তো আমেরিকা গিয়ে আমাকে ভুলেই গেছিস। নাহলে কবুল বলার আগে আমাকে কল দিতি। ভাগ্যিস জামান ভাই আমাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখে, এজন্য গতকাল আমাকে ছবি পাঠিয়ে রাখছিল"
"ছবিই দিয়ে দিল! ভালো তো!"
"হুহ। তুই তো দিলি না!"
"আমার ফোনে কোনো ছবি নাই"
"কল দিতে তো পারতি?!"
"ইয়ে মানে..."
ইরফানের বাসায় গিয়ে ওয়াইফাই কানেক্টের মত মানসিকতা ছিল না, আর বাসায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত জামানের ঘোর থেকেই তো বেরুতে পারলো না,বন্ধুকে জানাবে কি করে? এসব তো আর বলা যায় না! ফারহা মুখ গোঁজ করে বলল,
"ধুর তোর ভাইয়ের সাথে কথা বল!"
জামানের হাতে ফোন ধরিয়ে ও নিজের জিনিস গোছাতে শুরু করল। ওদিকে জামান ফোন নিয়ে হাসছে। পাভেল ওপাশ থেকে বলছে,
"জামান ভাই! বিবাহ মোবারক! ফাইনালি! আই হোপ আমার বান্ধবী আপনার উপর কোনো অত্যাচার চালায়নি!"
জামান হো হো করে হাসছে পাভেলের প্রশ্নে। ফারহার চেহারা লাল হয়ে গেছে। ওর মন চাচ্ছে জামানকে কুচি কুচি কুচি কেটে ফেলতে। জামানের হাসির পেছনের কারণ পাভেল হয়ত বুঝবে না, কিন্তু ফারহা ঠিকই বুঝতে পারছে। গতরাতে সে বেশ কয়েকবার খামচি দিয়েছে। জামান এ কারণে সকালে উঠে জোর করে ওর সবগুলো নখ কেটে ফেলেছে। ফারহা ঠোঁট উলটে বেশ কয়েকবার কান্নার ভাণ করেছিল, হাত পা মোড়ামুড়ি করেছে। ফলাফল, জামান ওকে দুই পা দিয়ে পেচিয়ে ধরে সব নখ কেটেছে।ও কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারেনি। আর এখন থেকে সে অর্ডার করেছে তার বউকে, কোনো ভাবে এসব খামচাখামচি কামড়াকামড়ি করা যাবে না। এসব ইঁদুর বিড়াল জাতীয় স্বভাব ছাড়তে হবে! ফারহার তখন অবস্থা হয়েছিল ঠিক ফাঁদে পড়া বাঘিনীর ন্যায় যে কিনা ছোট্ট বিড়াল হয়ে গেছে। জামান ঐ কথা মনে করেই হো হো করে হাসছে। কোনোভাবে হাসি বন্ধ করে বলল,
"তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো, তোমার বান্ধবীকে আমি ভালোভাবে সামলাতে জানি। আমি চুপচাপ বসে থাকার মানুষ তো আর না!"
"আচ্ছা, ভালো কথা। ফারহা এভাবে আপনার হাতে ফোন দিয়ে সরে গেল কেন? ও কি লজ্জা পাইছে?"
জামান ফারহার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে আছে। ফারহা এমন ভাব করছে যেন ও অন্ধ, বধির, কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না। জামান উত্তর দিল,
"লজ্জা পেয়েই তো আমাকে ফোন ধরিয়ে দিল মনে হচ্ছে! আজকাল আবার তোমার বান্ধবী খুব লাজুক হয়ে গেছে! আই ওয়ান্ডার, এত দিন এত লজ্জা কোথায় ছিল? আবার কথায় কথায় কান্নাকাটিও লাগিয়ে বসে থাকে!"
"এ্যাঁ! ফারহা আর লজ্জা?! কান্নাকাটি?! এ তো মিরাকেল হয়ে গেল! ভাই, আপনি আমার বান্ধবীকে ধরে পিটাচ্ছেন নাকি?!"
"এই, আমি কি তোমাকে পিটাই?"
জামান ফারহার দিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিল। ও কাপড় নিয়ে উলটো ঘুরে গেল। মনে মনে বলছে, দুই শয়তানের পা ঝাড়া এক হইছে। আজকে আমার মাথায় কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরাবে!

ВЫ ЧИТАЕТЕ
অভিসারক ও অভিসারিণী
Любовные романыফারহার জীবন থেমে যায়নি। জামান চলে গেছে, জামানের কাছ থেকে সে সরে এসেছে। কিন্তু সে কি আদৌ পেরেছে সরে আসতে? তাহলে কে তার অভিসারক? ফারহার বিয়ে হলো কার সাথে? কিভাবে? ফারহা এখন কি করছে? তারপর? ফারহার গল্পের শেষ অংশটুকু নিয়ে আবারও হাজির হলাম। অভিসারিণীর অ...