২২

516 25 3
                                        


"অরণ্য বাঁচাও প্লিজ"

অরণ্যর মনে হলো ওর আত্মাটা ধরে কেউ টান দিয়েছে। কি করে ও বিছানা থেকে উঠল, কি করে রুম থেকে বের হলো ওর জানা নেই। নিঝুমের কন্ঠস্বরে ও স্পষ্ট  ভয়ের আভাস পেয়েছে, অরণ্যর মনে হলো এক মাইক্রো সেকেন্ডের মধ্যে যদি কোনভাবে ও ঝুমের কাছে পৌছাতে পারত।

আমার ঝুমের যেন কিছু না হয়, ওর কিছু হলে আমি কি করে বাঁচব? প্লিজ প্লিজ আমার জন্য ওকে সুস্থ রাখো আল্লাহ , ভালো রাখো।

চৌষট্টি নম্বর রুমের দরজায় পৌছে ধাক্কা দেওয়ার পরও যখন ভেতর থেকে দরজার লক খুলল না, অরণ্যর জিহ্বা তখন ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। রুমের কোন দিকে জানালা মনে মনে একটা হিসেব কষার চেষ্টা করল ও, কেউ আক্রমন করলে জানালাটাই ব্যবহার করবে যদি সে দরজা ব্যবহার না করে। আবার হতে পারে দরজা দিয়েই ঢুকেছে।

কিন্তু ঝুম সাড়া দিচ্ছে না কেন? অরণ্যর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হলো।

জোরে জোরে আরও কয়েকবার ধাক্কা দেওয়ার পরও একই অবস্থা। ম্যানেজারের কাছে রুমের অতিরিক্ত  চাবি থাকার কথা। কিন্তু ভিতর থেকে যদি ছিটকিনি দেওয়া থাকে? থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে, ফিফটি ফিফটি চান্স আছে। দৌড়ে নিচের লবিতে এসে ডেস্কে খোঁজ করতেই ম্যানেজারকে পাওয়া গেল। বেচারা বোধহয় সবেমাত্র ঘুমাতে যাচ্ছিল। চাবি চাওয়াতে একটু অবাক হলো।  অরণ্য শেষে বলতে বাধ্য হলো, দরকার হলে আপনি আমার সাথে আসুন। কিন্তু  চাবিটা আমার খুব আর্জেন্টলি দরকার ।

"না না... স্যার তার কোনো প্রয়োজন নাই। "

ম্যানেজার শেষ পর্যন্ত ওর কাছে ঘরের চাবি দিয়ে সাথে একটা হোটেল বয়কে  দিল চাবিটা ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য... সঙ্গের ছেলেটার নাম সেলিম।

চাবি ঢুকিয়ে মোচড় দিতেই দরজার লকটা খুলে গেল। রুমে ঢুকেই অরণ্যর মাথা খারাপ, পুরো বিছানা উল্টোপাল্টা.. বালিশ সব নিচে পড়ে আছে, মনে হচ্ছে বিছানার উপর দিয়ে বড়ো কোনো ঝড় বয়ে গেছে। পায়ের কাছে পড়ে থাকা একটা বালিশ ওপরে তুলতেই ওটার নিচে ঝুমের প্রিয় লোশনটা চোখে পড়ল অরণ্যর। এটা ও চেনে। প্রতিদিনই এটা মাখতে দেখে ও ঝুমকে।

লুকোচুরি Cerita yang bikin terobses. Temukan sekarang